সারাদেশ

স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষা করে রাজধানীতে ফিরছে মানুষ

৫ আগষ্ট ২০২০, আজকের মেঘনা ডটকম,     ডেস্ক: প্রিয়জনদের সঙ্গে ঈদ উদযাপন শেষে এবার কর্মস্থলে ছুটছে মানুষ। বরিশাল দক্ষিণাঞ্চল থেকে রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে যাতায়াতের প্রধান মাধ্যম নৌপথ। তুলনামূলক কম ঝুঁকি এবং স্বল্প ভাড়ার কারণে নৌপথে আগ্রহ বেশি যাত্রীদের।

৪ আগস্ট বরিশালের লঞ্চ টার্মিনালে যাত্রীদের বেশ ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। লঞ্চগুলো রাতে ছাড়লেও বিকেল থেকেই যাত্রীরা লঞ্চঘাটে আসতে শুরু করেন। যাত্রীর ভীড়ে মুখর হয়ে ওঠে পন্টুন। হুড়োহুড়ি, ঠেলাঠেলি করে যাত্রীরা পরিবার-পরিজনসহ লঞ্চে উঠেন।

সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী লঞ্চগুলোতে যাত্রীরা শারীরিক দূরত্ব বজায় রেখে ভ্রমণ করবেন। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলবেন সবাই। কিন্তু সেই কথা রাখেননি লঞ্চমালিকেরা। বিকেলে বরিশাল নদী বন্দরে গিয়ে দেখা যায় সরকারি সব নির্দেশনা উপেক্ষা করে লঞ্চে অতিরিক্ত যাত্রী উঠানো হচ্ছে। স্বাস্থ্যবিধি রক্ষার কোনো বালাই সেখানে ছিল না। অনেকের মুখে ছিল না মাস্ক।

ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাওয়ার জন্য সকাল থেকে বরিশাল নদী বন্দরে নোঙর করা ছিল বিভিন্ন কোম্পানির ৬টি বিশালাকৃতির লঞ্চ। নদী বন্দরে নোঙর করা ঢাকাগামী এমভি সুন্দরবন-১০, এমভি মানামী, এমভি সুরভী-৮, এমভি পারাবত-১২, এমভি অ্যাডভেঞ্চার-১ ও এমভি কামাল খান-১ এর ডেক সন্ধ্যার পর যাত্রীতে পরিপূর্ণ হয়ে যায়।

লঞ্চের ডেকে একজনের শরীরের সঙ্গে আরেকজনকে ঘেঁষে বসে থাকতে দেখা গেছে। লঞ্চগুলোর ডেক ছিল যাত্রীতে গাদাগাদি। অতিরিক্ত যাত্রী চাপের কারণে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে বিআইডব্লিউটিএর কর্মকর্তারা নির্ধারিত সময়ের প্রায় ঘণ্টাঘানেক আগে সকল লঞ্চ পন্টুন ত্যাগ করার নির্দেশ দেন। রাত সাড়ে ৭টা থেকে পৌনে ৯টার মধ্যে পর্যায়ক্রমে ৬টি লঞ্চ বরিশাল নৌবন্দর ত্যাগ করে।

সচেতন যাত্রীরা বলছেন, ঈদুল আজহার সরকারি ছুটি শেষ হয়ে গেছে। অনেক বেসরকারি দফতরও খুলতে শুরু করেছে। ফলে দুর্ভোগ, ভোগান্তি মাথায় নিয়েই কর্মস্থলে ফিরতে শুরু করেছে মানুষ। গতবার ঈদে ১০-১২টি লঞ্চ যাত্রী বহন করেছে। এবার লঞ্চের সংখ্যা কমিয়ে দেওয়ায় এই দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে লঞ্চঘাটে। যাত্রীদের কাউকে হাত ধুয়ে কিংবা হাত স্যানিটাইজ করে লঞ্চের ভেতর প্রবেশ করতে দেখা যায়নি।

লঞ্চের পক্ষ থেকেও কোনো ব্যবস্থা নিতে দেখা যায়নি। লঞ্চমালিক কিংবা যাত্রী স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার ব্যাপারে শিথিলতা দেখাচ্ছেন, তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসন কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছে না। যে কারণে লঞ্চমালিকেরা তাদের ইচ্ছেমতো যাত্রী তুলছেন। যাত্রীরাও শারীরিক দূরুত্ব বজায় না রেখে লঞ্চে করে যাতায়াত করছেন। এতে করে করোনার ঝুঁকি মারাত্মকভাবে বেড়ে যাচ্ছে।

এমভি সুন্দরবন-১০ লঞ্চের সুপারভাইজার মো. হারুন-অর রশিদ জানান, তাদের লঞ্চের কেবিনের আজকের সব টিকিট আগেই বিক্রি হয়ে গেছে। ডেকের যাত্রীদেরও চাপ আজকে ছিল বেশি। এরপরও স্বাস্থ্যবিধি মেনে যাত্রীদের লঞ্চে উঠানো হয়েছে। পাশাপাশি ডেকে এক যাত্রী থেকে আরেক যাত্রীর শারীরিক দূরত্ব তিন ফুটের বেশি রাখার জন্য বারবার অনুরোধ করা হচ্ছে।

বরিশাল নৌ সদর থানা পুলিশের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, ঈদের পর আজ যাত্রীদের বেশ ভীড় দেখা গেছে। যাত্রীদের চাপ সামলাতে হিমশিম খেতে হয়েছে। ভিড় বাড়তে থাকলে কয়েকটি লঞ্চের ডেকে যাত্রী তোলা বন্ধ এবং ডেকের কিছু যাত্রীকে ফেরত পাঠানো হয়। পাশাপাশি অতিরিক্ত যাত্রী বহন ঠেকাতে নির্ধারিত সময়ের প্রায় এক ঘণ্টা আগে অর্থাৎ রাত পৌনে ৯টার মধ্যে নদী বন্দর ত্যাগ করতে লঞ্চ কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেয়া হয়।

পরিদর্শক মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, নৌ থানা-পুলিশের সদস্যরা কিছুক্ষণ পরপর মাইকে যাত্রীদের স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন। যাত্রীদের সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে লঞ্চে উঠতে অনুরোধ করেছেন তারা। তবে যাত্রীদের সেদিকে কোনো খেয়াল ছিল না। সবার আগে যাত্রীদের সচেতন থাকতে হবে। তবে নদী বন্দরে দেখছি, খুব কম যাত্রী স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলাচল করছেন।

মুখে মাস্ক না দিয়ে হাতে নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। যাত্রী পরিবহনের ব্যাপারে যেসব লঞ্চ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলবে না, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। করোনার ঝুঁকি এড়াতে যাত্রীদের সচেতন হওয়ার বিকল্প নেই।

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close