আইন-আদালত

ওস্তাদ শাহাদাত হোসেন খান আর নেই

২৯ নভেম্বর ২০২০, আজকের মেঘনা. কম, ডেস্ক রিপোর্টঃ

প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে না ফেরার দেশে পাড়ি জমালেন প্রখ্যাত সরোদবাদক ওস্তাদ শাহাদাত হোসেন খান। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিলো ৬২ বছর।

শনিবার (২৮ নভেম্বর) সন্ধ্যায় রাজধানীর ক্রিসেন্ট হাসপাতালে মারা যান ওস্তাদ শাহাদাত হোসেন খান।

ওস্তাদ শাহাদাত হোসেন খানের ভাগ্নে সেতার বাদক ফিরোজ খান বলেন, করোনায় আক্রান্ত হলে ১২ দিন আগে তিনি ক্রিসেন্ট হাসপাতালে ভর্তি হন। সেখানে শনিবার সন্ধ্যায় মারা যান তিনি।

শেষ যাত্রার বিষয়ে তিনি বলেন, ওস্তাদ শাহাদাত হোসেন খানের স্ত্রীও করোনায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। সুতরাং এ বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

শাহাদাত হোসেন খান ১৯৫৮ সালের ৬ জুলাই কুমিল্লা জেলার এক সঙ্গীত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা ওস্তাদ আবেদ হোসেন খান একজন প্রখ্যাত উচ্চাঙ্গ সঙ্গীতশিল্পী ও সেতার বাদক।

তার দাদা ওস্তাদ আয়েত আলী খাঁ উপমহাদেশের প্রখ্যাত সঙ্গীতজ্ঞ এবং ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁর ছোট ভাই। তার দুই চাচা প্রখ্যাত সঙ্গীতজ্ঞ বাহাদুর হোসেন খান এবং সঙ্গীত গবেষক ও লেখক মোবারক হোসেন খান।

সাত বছর বয়সে পিতার কাছে শাহাদাত হোসেনের তবলা ও সরোদের হাতেখড়ি হয়। পরে তিনি তার চাচা বাহাদুর হোসেন খানের কাছে সরোদের তালিম গ্রহণ করেন। ১৯৭২ সালে আলাউদ্দিন সঙ্গীত সম্মেলনে বাহাদুর হোসেনের সঙ্গে যুগলবন্দি হয়ে সরোদ পরিবেশন করেন। ১৯৮১ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইতিহাস বিভাগে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন।

পরে ১৯৮৫ সালে ক্যালিফোর্নিয়ার আলী আকবর কলেজ অব মিউজিক থেকে সঙ্গীত বিষয়ে স্নাতক সমমানের ‘বাদ্যলংকার’ ডিগ্রি লাভ করেন। তিনি কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গীতের শিক্ষক ও প্রশিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি সরকারি সঙ্গীত কলেজের ডেমোনেস্ট্রেশন-কাম-লেকচারার, সঙ্গীত বিষয়ক বক্তা ও প্রশিক্ষকের দায়িত্ব পালন করেন।

এছাড়া ১৯৯৩ ও ১৯৯৪ সালে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির উচ্চতর প্রশিক্ষণ কোর্সে সেতার, সরোদ, বেহালা, বাঁশি ও গিটারের প্রশিক্ষক এবং বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন সঙ্গীত একাডেমিতে কণ্ঠ ও যন্ত্রসঙ্গীতের প্রশিক্ষকের দায়িত্ব পালন করেন।

তিনি ‘মৃত্যুহীন প্রাণ’ ও ‘মিট বাংলাদেশ’ নামক দু’টি প্রামাণ্যচিত্রের সঙ্গীত পরিচালনা করেছেন। ২০০০ সালে যুক্তরাজ্য থেকে একটি সিডি প্রকাশিত হয়। পরে সেখান থেকে আরেকটি এবং বাংলাদেশ থেকে তিনটি সিডি ও ক্যাসেট প্রকাশিত হয়, যার মধ্যে রিপলস ইন মেডোস্ সিডিটি প্রকাশিত হয় বাংলাদেশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে।

সঙ্গীতে অবদানের জন্য তিনি ১৯৯৪ সালে একুশে পদক লাভ করেন। এছাড়াও তিনি কলকাতার রাজ্য সংগীত একাডেমি কর্তৃক সংবর্ধিত হন।

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close